বিশাল রান তাড়া করে জয়ের চেষ্টা করতে গিয়ে আফগানিস্তান চাপে পড়েছে। বাংলাদেশ দ্রুত তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিজেদের জয়ের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী করেছে।
বাংলাদেশ তিন উইকেট তুলে নিতেই চাপে আফগানিস্তান, জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩৪৭ রান
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে জয়ের আরও কাছে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে আফগানিস্তানের তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে টাইগাররা।
লিটন দাসের দুর্দান্ত শতক
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন দাসের দুর্দান্ত শতকের ওপর ভর করে দলটি ৭ উইকেটে ৩৭২ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য।
লড়াই চালিয়ে যায় আফগানিস্তান
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের সেদিকুল্লাহ আতাল ও রহমত শাহ প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে তাদের লড়াই সত্ত্বেও দিনের শেষ পর্যন্ত তিনটি উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
বাংলাদেশকে ৪০০ রানের অনেক নিচে আটকে রাখার যে সুযোগ আফগানিস্তানের ছিল, তা মূলত নির্ভর করছিল তাদের বোলারদের ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখার ওপর। তৃতীয় দিনের শেষ দিকে আফগান বোলাররা টানা তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ২১২/৩ থেকে ২২৩/৬ রানে নামিয়ে এনেছিলেন। এতে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়ার পথে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।
কিন্তু চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে লিটন দাস প্রথম দুই ওভারের প্রতিটিতে একটি করে চার মেরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন।
দিনের শুরুতে লিটন দুবার আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান। আফগানিস্তানের ফিল্ডাররা সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারায় লিটন পূর্ণ সুবিধা নেন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আফগান বোলারদের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করেন।
আফগানিস্তান দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর বাংলাদেশের বাউন্ডারি মারার গতি আরও বেড়ে যায়। এই সময় লিটন দ্রুত নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের রান দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আফগানিস্তানের বোলাররা উইকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খেতে থাকেন।

লিটনের শতকের পরই ইনিংস ঘোষণা বাংলাদেশের, চাপে আফগানিস্তান
পানীয় বিরতির পর মেহেদী হাসান মিরাজও কয়েকটি চার মারেন। এতে আফগানিস্তানের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে, উইকেট তুলে নেওয়ার মতো সাফল্য খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে থাকে আফগান বোলাররা।
বাংলাদেশের লিড বা রানের ব্যবধান ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠেন লিটন দাস। তিনি ধীরে ধীরে নিজের শতকের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন।
মেহেদী হাসান মিরাজ অর্ধশতক পূর্ণ করার ঠিক পরের ওভারেই লিটন তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান, অর্থাৎ নিজের শতক পূর্ণ করেন। তবে এর মাত্র তিন বল পর একটি টপ এজে তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। টপ এজ হলো ব্যাটের ওপরের কিনারায় বল লেগে ওপরের দিকে উঠে যাওয়া।
লিটন আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ইনিংস ঘোষণা করার সংকেত দেন।
আফগানিস্তানের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র সাত বলের মধ্যেই প্রথম উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ইবাদত হোসেনের করা একটি বল ব্যাটসম্যান আবদুল মালিকের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। মালিক বলটিতে ব্যাট ছোঁয়ালে সেটি উইকেটরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। ফলে দ্রুত প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
এরপর শহিদুল্লাহ কামাল কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে চাপ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়েই তিনি আউট হন। পুল শট খেলার চেষ্টা করার সময় বল তাঁর ব্যাটের নিচের কিনারায় লেগে উইকেটরক্ষকের হাতে চলে যায়।
ফলে ২৮ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে গভীর চাপে পড়ে আফগানিস্তান।
এমন পরিস্থিতিতে সেদিকুল্লাহ আতাল ও রহমত শাহ দলের হাল ধরেন। দুজনই অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাটিং করেন। একই সঙ্গে রান করার সুযোগ পেলে সেগুলোও কাজে লাগান। তাঁদের এই প্রতিরোধে আফগানিস্তান কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পায়।

চা-বিরতির পর রহমতের অর্ধশতক, শেষ বিকেলে ইবাদতের আঘাতে চাপে আফগানিস্তান
চা-বিরতির পর রহমত শাহ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যান, কারণ প্রথম স্লিপে থাকা ফিল্ডার তাঁর ক্যাচটি নিতে পারেননি। এরপর দুই ব্যাটসম্যানই উইকেট বাঁচিয়ে খেলার দিকে মনোযোগ দেন এবং কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েন।পরে রহমত শাহ কভার অঞ্চলের মধ্য দিয়ে একটি বাউন্ডারি মেরে চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন। অন্য প্রান্তে থাকা সেদিকুল্লাহ আতাল তাইজুল ইসলামের বলে লং-অফের ওপর দিয়ে বড় শট খেলেন।
দুই ব্যাটসম্যান বেশ কিছুক্ষণ ধরে বাংলাদেশের বোলারদের উইকেট নেওয়া থেকে দূরে রাখেন। তাঁদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁরা দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত আর কোনো উইকেট না হারিয়েই টিকে থাকবেন।
কিন্তু দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশ বড় সাফল্য পায়। কিছুক্ষণ আগেই অর্ধশতক পূর্ণ করা রহমত শাহ ইবাদত হোসেনের বলে ব্যাট ছোঁয়ান। বলটি উইকেটরক্ষকের হাতে চলে গেলে ৫১ রান করে আউট হন তিনি।
এরপর হাসমতউল্লাহ শহিদি ও সেদিকুল্লাহ আতাল আর কোনো উইকেট পড়তে না দিয়ে দিনের খেলা শেষ করেন। তবে শেষ দিনে আফগানিস্তানের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
দল ইনিংস রান
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ৩৪৬
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ৩৭২/৭ (ঘোষিত)
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস ২৪০
আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস ১৩২/৩
আফগানিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ৩৪৭ রান।

